Adsterra

১০ দিন কিছুই খাইনি!! আমাদের সব পুড়ে দেয়!!

0

নানা উৎকণ্ঠার পর ঘরে ফিরলেও স্বস্তি আসেনি দালালের খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত হওয়া ৫ যুবকের। তাদের অভিযোগ ঢাকার ইমিগ্রেশন পুলিশ সহযোগিতা না করায় সুদানে ফিরে জেলে মানবেতর জীবন কাটাতে হয়েছে তাদের। এমনকি সেখানে বাংলাদেশি দূতাবাস না থাকায় প্রতিনিয়ত নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে তাদের।
এদিকে পরিবারের ভাগ্য ফেরাতে বিদেশ গেলেও এখন তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত স্বজনরা। সুদান থেকে ফিরে এসে কান্নামাখা কণ্ঠে এসব যুবকরা জানায়, সুদানে যাওয়ার পরেই আমাদেরকে জেলে পুরে দেয়। সেখানে ১০ দিন আমরা কিছুই খেতে পারেনি। আমাদের ব্যাগে চকলেট ছিল সেগুলো খেয়ে দিন কাটিয়েছি।
দেশের ইমিগ্রেশন পুলিশের অসহযোগিতার কারণেই কিভাবে বিদেশে বিপাকে পড়তে হয়েছে সেই অভিজ্ঞতাই জানাচ্ছিলেন রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের ফরিদ মিয়া। এমন অমানবিকতার শিকার হন একই গ্রামের আশিকুর রহমানও।
একই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার খিরনাল এলাকার মাসুম মিয়াও। তিনি জানান, আমাদের কাছে পাসপোর্ট না থাকায় পুলিশ আমাদেরকে ধরে বলেছে তোমরা এই দেশের কোনো নাগরিক না। তোমরা দেশে ফিরে যাও। যার ফলে এখন আমি সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি।
এছাড়া তাদের সঙ্গে থাকা নওগাঁর সবুজ ও ময়মনসিংহের আনোয়ার হোসেনও শিকার হয়েছেন নানা ভোগান্তি ও হয়রানির।
ভাগ্য ফেরানোর আশায় গত বছরের এপ্রিলে ফরিদ ও আশিকুর বিদেশে পাড়ি জমায়। প্রথমে তারা একটি পলিথিন কারখানায় কাজ নিলেও তাদের পাসপোর্ট আটকে রাখে দালালরা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তাদের পাড়ি জমাতে হয় সুদানে।

তারা জানায়, পলিথিন কারখানায় কাজ নেয়ার পর এক মাস শেষে ২২শ’ টাকা বেতন পেয়েছিলাম। আমাদের কাছে পাসপোর্ট না থাকায় সে টাকা ব্যাংকে দিতে গেলেও ব্যাংক সে টাকা গ্রহণ করে না। কিছুদিন পরে আমাদেরকে সেখান থেকে ট্রান্সফার করে মরুভূমির মধ্যে নিয়ে যাওয়া হল। সেখানে আশেপাশে কোনো হাসপাতাল ও দোকান কিছুই ছিল না। আমরা সেখানে দিনের পর দিন না খেয়ে কাটিয়েছি।
তাদের বাবা মায়েরা বলেন, আমি জানি না দালালরা এতো নিষ্ঠুর প্রকৃতির হয়। তারা আমার ছেলেকে এতো কষ্ট দিয়েছে। এই দালালদের বিচার দাবি করছি আমরা।
তবে দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর ঘরে ফেরায় স্বস্তি ফিরেছে তাদের পরিবারগুলোর মধ্যে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)