Adsterra

নেত্রকোনার ৩ থানায় বিএনপির ১ হাজার ১০৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১৩

0

নেত্রকোনার ৩ থানায় বিএনপির ১ হাজার ১০৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১৩


রিপন কান্তি গুণ;
নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোনার তিন থানায় (পূর্বধলা, কলমাকান্দা, মদন) বিএনপির ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, পুলিশের ওপর হামলা, সংঘর্ষ, নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১ হাজার ১০৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। মামলার এজাহারে ১০৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, বাকিরা অজ্ঞাতনামা আসামি।

গতকাল শুক্রবার রাতে পূর্বধলা, কলমাকান্দা ও মদন থানায় এসব মামলা করা হয়। এর মধ্যে পূর্বধলা উপজেলায় আটক ১৩ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আজ (০২ সেপ্টেম্বর) শনিবার সকালে নেত্রকোনা বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. লুৎফর রহমান বলেন, অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। গ্রেপ্তারকৃত ১৩ জনের মধ্যে ১১ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- পূর্বধলা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল আল হেলালী, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শফিকুল ইসলাম সরকার, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার, যুবদল কর্মী মো. আল আমিন খান, রাহাতুল ইসলাম, মো. লাল চান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মো. আবদুল কাদির, বিএনপি কর্মী মুঞ্জু মিয়া, সোহরাব হোসেন, মো. সোহাগ মিয়া ও বকুল দত্ত।

পুলিশ ও বিএনপি'র নেতাকর্মীদের দেয়া তথ্যসূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিএনপির ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা বিএনপি শোভাযাত্রা, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচির শুরুতে সকাল নয়টায় উপজেলা সদরের রেলগেট এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষ হয় বেলা একটার দিকে। অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পর বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১৩ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। পরে রাতে আটককৃত নেতাকর্মীসহ মোট ৫৪৫ জনের বিরুদ্ধে নাশকতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে পুলিশ। মামলায় ৪৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।


পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্য, দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল বের করেন। এতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পুলিশ নেতাকর্মীদের বাধা দিতে গেলে তাঁরা পুলিশের ওপর হামলা চালান। এ হামলায় থানার এক উপপরিদর্শকসহ (এস.আই) পুলিশের চার সদস্য আহত হন। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এস.আই শহিদুল ইসলাম মোল্লা বাদী হয়ে ৪৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

অপরদিকে কলমাকান্দা উপজেলায় বিএনপি, আওয়ামীলীগ ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। কলমাকান্দা থানার এসআই জয়নাল আবেদিন ২৮৫ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন। তাঁদের মধ্যে মধ্যে এজাহারনামীয় আসামি ৩৫ জন।

কলমাকান্দা থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, বিএনপি'র নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় তাঁরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে থানার ৪ পুলিশ সদস্য আহত হন। এছাড়া সংঘর্ষে বিএনপি ও আওয়ামীলীগ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাতটি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে থানায় গতকাল রাতে ২৮৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এছাড়াও মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাওহীদুর রহমান জানায়, গতকাল বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মদন উপজেলার বাড়িভাদেরা এলাকায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. লুৎফুজ্জামান বাবরের বাড়ির সামনে পুকুরপাড় থেকে তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাতে এস.আই মো. শাহজাহান সিরাজ বাদী হয়ে ১৭৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তাঁদের মধ্যে মামলার এজাহারে ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে জেলা বিএনপি'র সদস্যসচিব ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিএনপিকে অস্তিত্বসংকটে ফেলতে ও সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামকে বাধাগ্রস্ত করতেই সরকার পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করে এভাবে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে একের পর এক গায়েবি মামলা দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে। তবে এসব করে বিএনপিকে দমানো যাবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)