নিজস্ব প্রতিবেদক, উজিরপুরঃ
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ১নং সাতলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে "উত্তর সাতলা পটিবাড়ি ৯নং ওয়ার্ড মৎস্য প্রকল্প"। প্রকৃত জমির মালিকদের উদ্যোগে এবং বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সমন্বয়ে এই বৃহৎ মাছ চাষ প্রকল্পটি রোববার (১১ মে) সকালে মিলাদ ও দোয়ার মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়।
গত ১১ মে রবিবার সকাল ১০টায় মিলাদ ও দোয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের উদ্বোধন করেন আনোয়ার মিয়া ও মোঃ মোস্তফা সরদার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রকৃত জমির মালিকগণ দীর্ঘ ১৬ বছর পর তাদের জমির দখল ফিরে পেয়ে একত্রিত হয়ে মৎস্য প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন। তবে, উদ্বোধনের কিছু সময় পরেই অন্য একটি দল মাছ ছাড়ার জন্য ওই ঘেরে প্রবেশ করতে গেলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বিএনপির সদস্যরা উভয় দলের মধ্যে রাজনৈতিক বিভেদ এবং আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে।
যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে ছিল উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোতায়েনকৃত পুলিশ বাহিনী। মিলাদ মাহফিল শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রায় সাড়ে ৪ (চার) লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন জাতের পোনা মাছ প্রকল্পে অবমুক্ত করা হয়।
যখন পোনা মাছ ছাড়া হয়, তখন পূর্বের কমিটির কেউ উপস্থিত ছিলেন না। তারা হয়তো অন্যত্র চলে গিয়েছিলেন। তবে উপস্থিত ছিলেন নতুন উদ্যোগের নেতৃত্বদানকারী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নেতারা জানান, আজ আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রায় সাড়ে ৪ (চার) লক্ষ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছেড়েছি এবং ভবিষ্যতে আরও ২০-২৫ লক্ষ টাকার পোনা মাছ ওই ঘেরে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি শুধু অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এটি এলাকার বেকারত্ব দূরীকরণেও সহায়ক হবে। তারা আশাবাদী যে, প্রকল্পটি এলাকার জন্য দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন আনবে এবং সেখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এ্যাড. মোঃ ফজলুল হক বিশ্বাস (এপিপি), মোঃ জাকির খন্দকার, মোঃ আতাহার বিশ্বাস, মোঃ সাহিন সরদার, স্বপন ফকির, মোঃ মামুন ফকির, মাওলানা মোঃ মোজাম্মেল হক বালী, মোঃ লাল মিয়া হাওলাদার, এমদাদ বিশ্বাস, নান্না মিয়া, মামুন সরদার, আরিফ সরদার, মাওলা পাইক, আব্দুল হাই মিয়া, অমল বৈদ্য প্রমুখ।
বক্তারা জানান, ভবিষ্যতে আরও ২০-২৫ লক্ষ টাকার মাছ ছাড়া হবে। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই প্রকল্পকে ঘিরে যেন কোনো কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র না করে, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
স্থানীয়দের মতে, এটি এলাকাবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। প্রকৃত জমির মালিকদের সম্মিলিত প্রয়াসে এই প্রকল্প একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করবে।

